গাজায় নিহতের সংখ্যা ৬৫ হাজার ছাড়িয়েছে, তীব্র হচ্ছে মানবিক সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা .R
সংগৃহীত ছবি:
সংগৃহীত ছবি:

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর লাগাতার হামলায় হতাহতের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া অভিযানে নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৬৫ হাজার ৬২ জনে পৌঁছেছে। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) একদিনেই নতুন করে আরও ৯৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, যা পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ তার একটি চিত্র তুলে ধরেছে।

হাসপাতালে মরদেহ ও আহতদের ভিড় গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত হাসপাতালগুলোতে ৯৮টি মরদেহ এবং ৩৮৫ জন আহত ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হয়েছে। তবে, প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে, কারণ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া অনেককেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় স্থানীয় উদ্ধারকারী দলগুলো প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও লোকবলের অভাবে হিমশিম খাচ্ছে।

ত্রাণ সংগ্রহে গিয়ে হতাহত যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে গাজায় ত্রাণ সংগ্রহ করতে যাওয়া সাধারণ ফিলিস্তিনিদের ওপরও নিয়মিত হামলা চালানো হচ্ছে। গত বুধবার ত্রাণ সংগ্রহের সময় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে আরও ৭ জন নিহত এবং ৮৭ জন আহত হয়েছেন। এর ফলে, এমন পরিস্থিতিতে নিহত ও আহত ফিলিস্তিনিদের মোট সংখ্যা যথাক্রমে ২ হাজার ৫০৪ এবং ১৮ হাজার ৩৪৮-এ পৌঁছেছে। এই ঘটনাগুলো গাজায় খাদ্য ও ত্রাণ সরবরাহের ক্ষেত্রে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

খাদ্যাভাব ও অপুষ্টিতে মৃত্যু গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় খাদ্য ও ত্রাণ সরবরাহ সীমিত করে দিয়েছে, যার ফলে সেখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে খাদ্যাভাব ও অপুষ্টি তীব্র আকার ধারণ করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার খাদ্য ও অপুষ্টিজনিত কারণে ৪ জন মারা গেছেন। গত প্রায় দুই বছরে এই কারণে মারা গেছেন ৪৩২ জন, যাদের মধ্যে ১৪৬ জনই শিশু।

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বহুবার গাজায় সামরিক অভিযান বন্ধের জন্য ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানালেও, তা ফলপ্রসূ হয়নি। এদিকে, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত