তুরস্কে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে এরদোয়ানের পদত্যাগ দাবি

আজকের মতামত ডেস্ক
সংগৃহীত ছবি: ফেসবুক
সংগৃহীত ছবি: ফেসবুক

নেপালের পর এবার তুরস্কে সরকারের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে। গতকাল রোববার রাজধানী আঙ্কারায় হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে। দেশটির প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) শত শত সদস্যের ওপর এক বছরের আইনি দমন-পীড়নের পর তাদের নেতাকে সরিয়ে দিতে আদালতের মামলার বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ। লাইভ ফুটেজে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট তাইয়েপ এরদোগানের পদত্যাগের দাবিতে তুর্কি পতাকা ও দলীয় ব্যানার নাড়িয়ে স্লোগান দিচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, তুরস্কে দুর্নীতির অভিযোগে গত মার্চে ইস্তাম্বুলের মেয়র এবং বিরোধী নেতা একরেম ইমামোগলুকে গ্রেপ্তার করে এরদোয়ান প্রশাসন। এর প্রতিবাদে, দেশটিতে এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হয়। এবার বিরোধী দলের ওপর সরকারের ক্রম-বর্ধমান দমন-পীড়নের অভিযোগের মধ্যে রোববার আঙ্কারায় প্রধান বিরোধী দল সিএইচপির সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে যোগ দেন লাখো মানুষ। 

বিরোধী দলকে দুর্বল করতেই সরকার পরিকল্পিত অবৈধ অভিযান চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ সিএইচপির। দলটির নেতা ওজগুর ওজেল বলেন, ‘এই মামলাগুলো রাজনৈতিক। দুর্নীতির অভিযোগগুলো মিথ্যা। আমাদের নেতারা নির্দোষ। যা করা হচ্ছে তা একটি অভ্যুত্থান। আমাদের ভবিষ্যত প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে, ভবিষ্যত সরকারের বিরুদ্ধে একটি অভ্যুত্থান। আমরা তা প্রতিরোধ করব।

তাছাড়া, সমাবেশে আগাম নির্বাচনের দাবিও তুলেন সিএইচপি নেতা ওজগুর ওজেল।

এদিকে, বিরোধীদের অভিযোগ অস্বীকার করে এরদোয়ান সরকার বলছে, তুরস্কের বিচার ব্যবস্থা স্বাধীন এবং তারা আইন অনুযায়ী কাজ করছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, সোমবার আদালতের সিদ্ধান্ত বিরোধী দলের কাঠামো পরিবর্তন করতে পারে, আর্থিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে এবং ২০২৮ সালের সাধারণ নির্বাচনের সময়সূচির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
   
গতকাল আঙ্কারার র‍্যালিতে কারাগার থেকে পাঠানো ইমামোগলুর একটি চিঠি পড়ে শোনানো হয়। চিঠিতে ইমামোগলু লেখেন, সরকার বৈধ প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরিয়ে দিয়ে পরবর্তী নির্বাচনের ফলাফলকে পূর্বনির্ধারিত করার চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিচারিক কার্যক্রম এবং ভিন্নমত দমন করার অন্যান্য প্রচেষ্টার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে দুর্বল করছে।
 
ইমামোগলু লেখেন, ‘এই দেশে ‘‘আমি’’–এর যুগ শেষ হবে, এবং ‘‘আমরা’’–এর যুগ শুরু হবে। একজন হারবে, এবং বাকি সবাই জিতবে।’ চিঠিটি পড়ার পর জনতা হাততালি দেয় এবং ‘প্রেসিডেন্ট ইমামোগলু’ বলে স্লোগান দেয়।

বিষয়:

তুরস্ক
এলাকার খবর

সম্পর্কিত