আলী হাসান মৃধা: নিজের পথ নিজেই তৈরি করেছেন যে তরুণ কণ্ঠশিল্পী
ঢাকা: গানের প্রতি অগাধ ভালোবাসা আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি নিয়ে সংগীত জগতে নিজের জায়গা করে নিচ্ছেন তরুণ কণ্ঠশিল্পী আলী হাসান মৃধা। ঢাকার যাত্রাবাড়ীর চন্দনকোঁঠা এলাকার এই জাদুকরী কণ্ঠের অধিকারী শৈশব থেকেই গানের টানে ছুটে বেড়িয়েছেন। বহু মানুষের কাছে গানের সুযোগ চেয়েও তিনি পাননি, কিন্তু হতাশ না হয়ে নিজেই পথ তৈরি করেছেন।
প্রথমদিকে তিনি নিজের গান ফেসবুক পেইজ ও ইউটিউব চ্যানেলে রেকর্ড করে প্রচার করা শুরু করেন। প্রথমদিকে সমালোচনার শিকার হলেও, তার অনন্য গায়কী ধীরে ধীরে শ্রোতাদের মন জয় করে নেয়। তার গানগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। অনেকেই তার কণ্ঠে বাংলাদেশের জনপ্রিয় লোকসংগীতশিল্পী বারি সিদ্দিকীর ছায়া খুঁজে পান, যা তাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।
আলী হাসানের বড় ভাই নুরুল আমিন এবং মামা নূর জামাল খাঁন-এর উৎসাহে এবং পরিবারের সমর্থনে তিনি সকল বাধা উপেক্ষা করে সংগীতের পথে এগিয়ে চলেছেন। তিনি শুধু নিজেই সফল হননি, বরং অনেক নতুন এবং প্রতিভাবান শিল্পীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছেন, যারা সুযোগের অভাবে নিজেদের প্রতিভা প্রকাশ করতে পারছেন না।
সফলতার পথে আলী হাসান
বর্তমানে আলী হাসান মৃধা এটিএন নিউজ ও একুশে টেলিভিশনসহ বিভিন্ন চ্যানেলে গান গেয়েছেন এবং জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো 'গানে গানে সেরা'-তে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, তিনি ২০১৯ সালে প্রতিশ্রুতিশীল কণ্ঠশিল্পী হিসেবে প্রায় ৫ হাজার শিল্পীর মধ্যে 'এ গ্রেড' তালিকাভুক্ত হয়েছেন। এই সাফল্যের পর থেকে তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির তালিকাভুক্ত কণ্ঠশিল্পী হিসেবে বিভিন্ন সময়ে সরকারিভাবে আয়োজিত নানা অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেছেন। বিশেষ করে বিভিন্ন বিশেষ দিনে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে গান গাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
তার কণ্ঠে জনপ্রিয় হওয়া কিছু উল্লেখযোগ্য গান হলো - 'হরি দাসীরে', 'আমি একটা জিন্দা লাশ', 'আমি যে দিন নেব বিদায়', 'কেনো পাঠাইলা বিধি', 'দমের নাম আদম', 'ওরে মেহেরজান', 'মানুষ ধরো মানুষ ভোজো', 'চোখের নজর এমনি করে', 'আমি তোর পিরিতের মরা', 'কি আছে জীবনে আমার' ইত্যাদি।
আমাদের প্রত্যাশা, আলী হাসানের মতো শিল্পীরাই একদিন গানের সুরে মানুষের মনকে মাতোয়ারা করবে। আজকের মতামত পরিবারের পক্ষ থেকে তার প্রতি রইল অনেক দোয়া এবং ভালোবাসা।