‘রেকর্ড আল হাসান’ তকমা তো সাকিব আল হাসানের নামের সঙ্গে আগেই জুড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তো বটেই, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে যে টি-টোয়েন্টি, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেছেন, সব জায়গাতেই রয়েছে তাঁর রেকর্ড। ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) বাঁহাতের ঘূর্ণিতে গত রাতে তিনি করেছেন একাধিক রেকর্ড।
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) এবার তিন বছর পর ফিরে সাকিব খেলছেন অ্যান্টিগা এন্ড বারবুডা ফ্যালকনসের হয়ে। অ্যান্টিগার স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে সেন্ট কিটস এন্ড নেভিসের বিপক্ষে ২ ওভারে ১১ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। ব্যাটিংয়ে ১৮ বলে ১ চার ও ২ ছক্কায় করেছেন ২৫ রান। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে পেয়েছেন ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার। সিপিএলে বিদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছয়বার ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন সাকিব। এই তালিকায় সবার ওপরে নিউজিল্যান্ডের কলিন মুনরো। কিউই এই বাঁহাতি ব্যাটার সিপিএলে ১১ বার ম্যাচসেরা হয়েছেন। দুই পাকিস্তানি শোয়েব মালিক, সোহেল তানভীর উইন্ডিজের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে পাঁচবার করে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পেয়েছেন।
৫০০ উইকেটের অভিজাত ক্লাবে নাম লেখাতে সাকিবের দরকার ছিল এক উইকেট। মোহাম্মদ রিজওয়ানকে কট এন্ড বোল্ড করে সাকিব ছুঁয়ে ফেললেন সেই মাইলফলক। পরবর্তীতে কাইল মায়ার্স ও নিকোলাস বিদাইসির আরও দুটি উইকেট নিয়েছেন সাকিব।
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) এবার তিন বছর পর ফিরেছেন সাকিব। ফেরার পর নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারছিলেন না। গত রাতে তিনি ব্যাটিং, বোলিং দুই বিভাগেই জ্বলে উঠলেন। বাংলাদেশের তারকা অলরাউন্ডারকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন অ্যান্টিগা অধিনায়ক ইমাদ ওয়াসিম। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ইমাদ বলেন, ‘দারুণ এক প্রচেষ্টা ছিল। সবাই যার যার জায়গা থেকে চেষ্টা করেছে। দেখে ভারো লাগছে। আজকের দিনটা ছিল সাকিব আল হাসানের। বোলিংয়ে দারুণ করেছে। সে দারুণ ক্রিকেটার।’
বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়া ম্যাচ বাদ দিয়ে অ্যান্টিগা এখন পর্যন্ত এই সিপিএলে খেলেছে পাঁচ ম্যাচ। স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ৪৯৮ উইকেট নিয়ে শুরু করা সাকিবের ৫০০-এর মাইলফলক ছুঁতে লেগেছে পাঁচ ম্যাচ। এবারের সিপিএলে তিনি ৭ ইকোনমিতে নিয়েছেন ৪ উইকেট। সব মিলিয়ে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ৪৫৭ ম্যাচে নিয়েছেন ৫০২ উইকেট। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে সর্বোচ্চ ৬৬০ উইকেট নিয়েছেন রশিদ খান। এই তালিকায় সাকিব রয়েছেন পাঁচে। দুই, তিন ও চারে থাকা ডোয়াইন ব্রাভো, সুনীল নারাইন ও ইমরান তাহির নিয়েছেন ৬৩১, ৫৯০ ও ৫৫৪ উইকেট।